খালিদ কে? ওয়ালিদের ছেলে৷ ওয়ালিদ কে? মুগীরার পুত্র৷ওয়ালিদ বিন মুগিরা কে ? তার সম্পর্কে কোরানে বলা হয়েছে, ৷খালিদের পিতা ওয়ালিদ বিন মুগীরা সম্পর্কে আয়াত রয়েছে।
اِنَّهٗ فَكَّرَ وَ قَدَّرَ(18)فَقُتِلَ كَیْفَ قَدَّرَ(19)ثُمَّ قُتِلَ كَیْفَ قَدَّرَ(20)ثُمَّ نَظَرَ(21)ثُمَّ عَبَسَ وَ بَسَرَ(22)ثُمَّ اَدْبَرَ وَ اسْتَكْبَرَ(23)فَقَالَ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ یُّؤْثَرُ(24)اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِﭤ(25)سَاُصْلِیْهِ سَقَرَ(26)
এই খালিদও পাথরের পূজারি ছিলো। পাথরের সামনে মাথা নত করতো । কিন্তু যখন নবুওয়তের জ্যোতি অন্তরে অবতীর্ণ হলো। কালিমার (তাওহিদের )আলো বুকে প্রবেশ করলো৷এই পাথর পূজারির অন্তর যখন ইমানের নূর এলো তখন তিনি হয়ে গেল সাইফুল্লাহ। মুতা যুদ্ধ চলছিলো। মুতা মদীনা থেকে প্রায় সাতশ মাইল দূরে জর্ডানে একটি জায়গার নাম ৷সেখানে রোমিও সৈন্য একলাখ আর মুসলিম বাহিনি তিন হাজার । তিন হাজারের বাহিনী এক লাখের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। আল্লাহর নবী সৈন্য পাঠিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে যায়িদ বিন হারিসা তোমাদের সেনাপতি। যদি যায়েদ বিন হারিসা শহীদ হন, তবে জাফর, আমার চাচার ছেলে, আলীর ভাই, তিনি তোমাদের দলনেতা তিনি শহীদ হলে আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা তোমাদের নেতা , তিনি শহিদ হলে যাকে ইচ্ছা আমীর বানিয়ে নিও। একজন ইহুদি দাঁড়িয়ে এসব শুনছিলেন। তিনি বললেন এই তিনজনের জন্য শাহাদাতের সুসংবাদ ৷আল্লাহর নবি যদি শব্দে দিয়ে যা বলে ঐটাও সত্য হয়ে ঘটে যায়। এই তিনজন যেন উসিয়ত করে যায় তারা আর ফিরে আসবে না। আমি উনিশশো একানব্বই সালে যেখানে এই যুদ্ধ হয়েছিল, সেখানে গিয়েছিলাম ৷সেখানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেছি। প্রত্যেক কবরে গিয়ে ফাতিহা পাঠ করেছি৷ বিশাল বড় এক ময়দান. আর এক লাখ সৈন্য তিন হাজারের সৈন্যের সামনে উপস্থিত হলো।জায়েদ অগ্রসর হয়ে পতাকা উত্তোলন করলেন এবংদুঃসাহসীকতার সহিত প্রচণ্ড যুদ্ধ করলেন এবং তিনি শহীদ হলেন এবং তিনি জান্নাতে চলে গেলেন৷ রাসূল সাঃ মসজিবে নববীতে বসা ছিলেন ৷মুতা থেকে সাতশো মাইলের দূরত্ব ৷মসজিদে নববী লোকে লোকারন্য তিনি সাঃ বললেন এখন ঝান্ডা জাফর উত্তোলন করেছে এবং সামনে অগ্রসর হয়তেছে ৷তখন জাফরের বয়স তেত্রিশ বছর ছিলো । যখন তিনি যুদ্ধের ময়দানে সামনে এগিয়ে চলতেছিলেন ,সন্তানদের কথা স্বরণ হলো।তিনটি ছোট বাচ্চা ছিল ৷তিন সন্তানের দুইজন কারবালায় শহিদ হন ৷এক ছেলে আব্দুল্লাহ বেঁচে ছিলো ৷যেমন হুসাইন রাঃ এর এক সন্তান যাইনুল আবিদিন বেঁচে ছিলো ৷আব্দুল্লাহ থেকে জা'ফর রাঃ এর বংশের বিস্তার ঘটে ৷যেমন হুসাইন রাঃ এর আওলাদ যাইলনুল আবিদিন থেকে বিস্তার লাভ করে ৷ তার স্ত্রী আসমা বিনতে আওয়াইসের বয়স 21বা 22 ছিলো। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কথা মনে পড়ে গেল। । সাথে সাথে সে ঘোড়াকে লাথি মেরে ঘোড়ার চার পা কেটে ফেললো ৷ যেন স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসায় পিছনে ফিরে না যায়। ফেরার পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। আর পতাকা নেড়ে তলোয়ার দোলালো।আজই প্রস্তুত হও রোম। আজ আমার তলোয়ার তোমার রক্ত পিপাসু
২এবং তলোয়ার দোলালেন। ফেরার পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। আর পতাকা নেড়ে তলোয়ার দোলালো।আজই প্রস্তুত হও রোম। আজ, আমার তলোয়ার তোমার রক্তের পিপাসু এবং হে স্বর্গ, প্রস্তুত হও, আমি তোমার মধ্যে আসছি। তাই আমাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হও । হে রোম, তুমি তোমার নিজের মৃত্যুকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হও । এটা বলে তিনি সামনে অগ্রসর হলেন ৷ যুদ্ধ করতে করতে তার একটি হাত কেটে গেল৷ অন্য হাতে পতাকা ধরলেন ৷তার ঐ হাতও কেটে যায় । একজন বললেন জাফর শহীদ হয়েছেন এবং তিনি বেহেশতে গেছেন।এখন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এখন পতাকা তুলেছেন। এবং তিনি এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধ করলেন এবং নিহত হলেন এবং তিনি বেহেশতে চলে গেলেন।তৃতীয় প্রধানের শাহাদাতে পতাকা জমিনে পড়ে গেল।এখন তারা নিশ্চুপ হয়ে গেল।পতাকা পড়ে গেল।এক সাহাবীর নাম সাবিত বিন আকরাম আনসারী। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি ছিলো৷তিনি পতাকা তুলে বললেন, "কে পতাকা উত্তোলন করবে?লোকেরা বললো তুমিই উত্তোলন করো ৷তিনি বললেন আমি তুলতে পারবো না।বরং অন্য কাউকে উত্তোলন করতে বলো ৷ মাঝখান থেকে একজন মানুষ,(জানা নেই সেইমানুষটি কে, ইতিহাস এই ব্যাপারে নীরব।) মাঝখান থেকে একটা আওয়াজ এল। খালিদ বিন ওয়ালিদকে দেওয়া হোক ,তখন সবাই বলল হ্যাঁ, হ্যাঁ, খালিদকে দেওয়া উচিত। খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা.) বললেন, আমি একজন নতুন মুসলিম। মুসলমান হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম যুদ্ধ ছিলো। তিনি বলতে লাগলো, "আমি একজন নবমুসলিম। পতাকাটা বদর বা উহুদে অংশগ্রহণ কারী কোন প্রবীণ সাহাবিকে দেওয়া হোক। সকলে বললো না না ৷খালিদ ,খালিদই এর যোগ্য। খালিদ পতাকা নেড়ে এই কাজ করলেন। তরবারির দিকে।মদিনায় নবীজি বললেন এবং এখন আল্লাহ তার তরবারি বের করলেন। এখন আল্লাহ তার একটি তরবারি বের করলেন, তখন থেকে খালিদের নাম সাইফুল্লাহ হয়ে গেলো। যখন তারঁ মৃত্যুর সময় হয়ে এলো , তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আমি শতাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর প্রথম সারিতে লড়েছি কিন্তু আজ আমি বিছানায় শুয়ে মরছি। আলেমগণ লেখেন যে, খালিদ বিন ওয়ালীদ যদি একশর পরিবর্তে এক হাজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন তবুও তিনি শহিদ হতে পারতেন না । কারণ তিনি সাইফুল্লাহ। সাইফুল্লাহ অর্থ আল্লাহর তরবারি আল্লাহর তরবারি ভেঙ্গে যেতে পারে না, কেউ ভাঙতে পারে না। তাঁর খেতাব তাঁর শাহাদাতে এসেছে । এই তরবারিকে উত্তোলন করৈছেন স্বয়ং নবিজি সাঃ। এখন আল্লাহ তায়ালা তারঁ তরবারি সমূহের একটি করে নিলেন । এই পাথরের পূজারিকে এখন সাইফুল্লাহ বলা হচ্ছে । এটা মুহাম্মদ মোস্তফার দাসত্বের প্রভাব। নবিজির সোয়া লাখ অনুসারির একটি দল যাদেরকে মৃত্যুর পূর্বে জীবদ্দশায় আল্লাহ তায়ালা প্রতুশ্রুতি দিয়ে বলেন , হে আমার নবী আমার ওয়াদা। আমি তোমার সকল সঙ্গীকে বেহেশত দান করব। সকলের জন্য সু সংবাদ। আর বদর সম্পর্কে আল্লাহর নবী বলেছেন: আমার আল্লাহ বলেছেন। আমি তাদের ক্ষমা করেছি তারা যা খুশি তাই করুক ।আমার পিয়ারে ভাই, রসুলের গোলাম হও রসুলের অনুসরণ করো । রাসুলের গোলামিতে দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মান রয়েছে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন